সোনা চোরাচালান বিরোধে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল খুন

 শুভ সকাল। আজ ১০ জুন, সোমবার। গতকাল রোববারের ছুটির দিনে প্রথম আলোর অনেক আলোচিত সংবাদ হয়তো আপনার নজর এড়িয়ে গেছে। তাই দিনের শুরুতেই দেশ-বিদেশের আলোচিত পাঁচটি খবর ও বিশ্লেষণ পড়ে নিতে পারেন।


1.চার দশক আগে ঝিনাইদহ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানে যুক্ত হন তিনি। পরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পৌর কাউন্সিলর, উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে সংসদ সদস্য পর্যন্ত হন। তবে চোরাচালানের সেই চক্র থেকে মুক্ত হতে পারেননি। সেই বিরোধেই ভারতের কলকাতায় খুন হন আনোয়ারুল আজীম (আনার)।


তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম খুনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অন্ধকার জগতের লোক। খুনের মূল পরিকল্পনাকারী আনোয়ারুলের বাল্যবন্ধু আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহীন, যিনি নিজেও সোনা পাচারকারী একটি চক্রের প্রধান। খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন পেশাদার সন্ত্রাসী শিমুল ভূঁইয়া, যিনি একসময় একটি চরমপন্থী সংগঠনের নেতা ছিলেন।


এই খুনের কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, অপরাধজগতের সঙ্গে আনোয়ারুল আজীমের যোগাযোগ অনেক পুরোনো। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি নিজ জেলা ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালানে যুক্ত হন।


অনুসন্ধানে জানা যায়, নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে ঝিনাইদহ শহরের এক বড় সোনা চোরাচালানির হাত ধরে আনোয়ারুল আন্তর্দেশীয় চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন। ধীরে ধীরে তিনি ঝিনাইদহ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সোনা চোরাকারবারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন। সংসদ সদস্য হওয়ার আগে আনোয়ারুলের বিরুদ্ধে চোরাচালান ও খুনের ঘটনায় অনেকগুলো মামলা ছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কিছু মামলা থেকে তিনি রাজনৈতিক বিবেচনায় অব্যাহতি পান এবং বাকি মামলাগুলো থেকেও খালাস পান।


সংসদ সদস্য হওয়ার পর আনোয়ারুলের বিরুদ্ধে আর মামলা না হলেও তিনি ওই অঞ্চলে সোনা চোরাচালানের প্রধান নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছিলেন বলে সরকারের একাধিক সংস্থার প্রতিবেদন ও সরেজমিন অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে। স্থানীয় রাজনীতিক ও প্রশাসনের লোকজনও এ বিষয়ে জানতেন, তবে সংসদ সদস্য হওয়ার পর কেউ এ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস করেননি।


ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগের একজন প্রবীণ রাজনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, "আনারের (আনোয়ারুল আজীম) চার দশকের অন্ধকার জীবন। রাজনীতিতে এসে এবং সংসদ সদস্য হয়ে সেই জীবনে আলো ফেলার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর অন্ধকার জীবন অন্ধকারেই মিলিয়ে গেল।"


এই মন্তব্যের কারণ, গত ১২ মে আনোয়ারুল ভারতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরে জানা যায়, ১৩ মে আনোয়ারুলকে খুন করে লাশ টুকরা টুকরা গুম করা হয়েছে সোনা চোরাচালানকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে। এখন পর্যন্ত তাঁর লাশ পাওয়া যায়নি।


সর্বশেষ গতকাল শনিবার (৮ জুন) কলকাতাভিত্তিক সংবাদপত্র আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি খবরে সেখানকার তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে বলা হয়, আনোয়ারুল আজীম সীমান্তে সোনা পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একটি টাকা পাচার চক্রেরও প্রধান ছিলেন। এ ছাড়া আনোয়ারুল খুনে সন্দেহভাজন আখতারুজ্জামানও সোনা পাচারে যুক্ত ছিলেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post