গৃহসঙ্গীর বিদায়ের প্রসংগ নিয়ে ৩৬ বছরের গৃহসঙ্গীর অনুভব বিষয়ক প্রবন্ধ।

 গৃহসঙ্গীর বিদায়ের প্রসংগ নিয়ে ৩৬ বছরের গৃহসঙ্গীর অনুভব বিষয়ক প্রবন্ধ।

বিদায় সংবর্ধনায় আনোয়ারা বেগম এবং তার পরিবারের সদস্যরা।


মা দিবসে রাজধানীর গ্রিন রোডের একটি বাসায় একটু বিশেষ আয়োজন অনুষ্ঠিত হল। সেই দিন, ৩৬ বছরের গৃহসঙ্গী আনোয়ারা বেগমকে ফুল এবং উপহার দিয়ে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হল তার পরিবারের দ্বারা।


এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যাপক কামরুন নাহার এবং তাঁর স্বামী, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা এন এম শরীয়ত উল্লাহ। এই দম্পতির সংসার দীর্ঘ ৩৬ বছর আগে রেখেছিলেন আনোয়ারা বেগম। এবার তিনি নিজের এলাকায় ফিরে যাচ্ছেন।



বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আনোয়ারার ছবি দিয়ে বানানো হল একটি ব্যানার। তার ছবি দেখে আনোয়ারা লজ্জা পাচ্ছিলেন যদিও খুশি হয়েছিলেন। যখন তিনি রাজধানীর গ্রিন রোডের এই বাসায় প্রথম আসেন, তখন কামরুন নাহারের শাশুড়ি খুব অসুস্থ ছিলেন। কামরুন নাহার নিজে তখন স্নাতকে পড়ছিলেন এবং সদ্য দ্বিতীয় সন্তানের মা হয়েছিলেন। তাঁর অবস্থা খুব উদ্বিগ্ন ছিল। আনোয়ারা এলেন এবং তারপর তিনি পাকাপাকিভাবে কখনোই নিজের বাড়ি যাননি।


৭০ বছর বয়সী আনোয়ারা এখন খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় থাকছেন ভাইয়ের ছেলেদের কাছে। তিনি এই ৩৬ বছরে তার পরিবারের ঝড়ঝাপ সামাল দিতে কামরুন নাহারের সঙ্গী হয়েছেন।


কামরুন নাহার বিসিএস দিয়ে পড়াশোনা শেষ করেছেন এবং একটি সন্তানের মা হয়েছেন। সাথেই চাকরিতেও ঢুকেছেন। এখন তিনি ফেনী, ঢাকা এবং অন্যান্য জায়গায় চাকরি করছেন।


আনোয়ারা বেগমের স্বামী তাকে ছেড়ে গিয়েছিলেন, তবে একমাত্র মেয়েকে তার কাছে দিয়েছিলেন। সেই মেয়ের বিয়ে হয়েছে এবং তাঁর সন্তানস্নেহে লালনপালন করা হয়েছে।



কামরুন নাহার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আনোয়ারার জন্ম সম্ভবত ভারতে ছিল। তার সাথে বাংলাদেশে এসে থাকতে হয়েছিল। তার জীবনে অনেক ঝড়ঝাপ ছিল। অধ্যাপক কামরুন নাহারের মা মারা যায়, তার স্বামীও ছেড়ে চলে যায়, এবং পরে তার ভাই ও মারা যায়। আনোয়ারা ভাবেন তিনি একাই তার পৃথিবী। তাই তিনি তার সাথে আছেন। তিনি যখন অসুস্থ হতে পারতেন, আমি তাকে বুঝতে পারতাম, এবং এভাবেই ৩৬ বছর কেটে গেল।’


আনোয়ারা বেগমের ভাই বা অন্য সদস্যরা তাঁকে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তাহসিনা আফরিন। পরিবারের সঙ্গে থাকার সম্ভাবনা থেকে বিচ্যুত হলেও এই পরিবারের মেয়েটি এখনও সহজে তাদের সম্পর্ক ভাবতে পারেন না। আনোয়ারা বেগম তাদের বাড়ির জন্য এক পিলারের মতো ছিলেন এবং তাদের সহযোগিতা ও সাপেক্ষতা কখনও অপার। তাদের ছেলে-মেয়েরা এখন তার সাথে থাকার জন্য চেষ্টা করছেন, যা আনোয়ারা বেগম খুশিতে গ্রহণ করছেন। একেবারে ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও তিনি সময় নিয়ে বাড়ির মধ্যে পরিবারের সম্মানিত অবস্থা বজায় রাখতে পারেন। 


তাহসিনা আফরিন বলেন, "আমরা প্রত্যেক মাসে তাঁর জন্য একটি পেনশনের মতো করে কিছু টাকা পাঠাচ্ছি। আর প্রয়োজনে আমরা তার পাশে থাকব।" 


বিরাট পরিবারের মধ্যে তাদের সম্পর্কের গভীরতা এবং আনোয়ারা বেগমের অসামঞ্জস্যের মাধ্যমে এই বন্ধনটি এত পরিষ্কার এবং সংযুক্ত রইল যে এটি স্বাধীন জীবনের সম্মানিত একটি অংশ হয়ে উঠেছে। 

Post a Comment

Previous Post Next Post